সংবিধান সংস্কারে ‘জনপ্রত্যাশাই চূড়ান্ত নির্দেশনা’ :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংস্কারে জনগণের প্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবিধানের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবি জানানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কোনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; বরং এটি একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ও দাবি যেন উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংবিধান সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সনদের আলোকে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সংশোধনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সংবিধান গঠনের জন্য ঐকমত্যের বিকল্প নেই।”
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অনাস্থার পরিবেশে একটি সমঝোতাভিত্তিক উদ্যোগ স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এই ঐকমত্য কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতার ওপর।
এদিকে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব পড়তে পারে।





