‘শিক্ষকরা যেন দ্বিতীয় চাকরি না করে মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে দেন, তাই সম্মানি বাড়বে’
দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের মেধা যেন পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় হতে পারে, সেজন্য পর্যায়ক্রমে তাদের সম্মানি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন (বিল্ডিং) হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদের (হিউম্যান রিসোর্স) কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা যদি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সম্মানি বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা সম্ভব নয়।”
শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষকেরা সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে স্কুলের ক্লাস দ্রুত শেষ করে দ্বিতীয় কোনো চাকরি বা কৃষি কাজে যুক্ত হন। এই বাধ্যবাধকতা যেন না থাকে এবং শিক্ষকরা যাতে তাদের পুরো সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন, সেজন্যই সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন।” সরকার চলতি বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে বড় একটি সুখবর দেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া হবে। এই প্রকল্প দেশের সকল সংসদীয় আসনেই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে চীনে কাঁঠাল রপ্তানি ও সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক চীন সফরে আমরা কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। চীনের মানুষের কাছে আমাদের কাঁঠাল অত্যন্ত জনপ্রিয়।” মালয়েশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা প্রতি বছর চীনে ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ডুরিয়ান’ ফল রপ্তানি করে, যা দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। তারা পারলে আমরাও কাঁঠাল রপ্তানির মাধ্যমে বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”
আজকের অধিবেশনে প্রথম ৩০ মিনিট নির্ধারিত এই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী ৪ জন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।





