লাইরিড উল্কাপাত: দেশের আকাশে মহাজাগতিক উৎসব!
এপ্রিলের প্রথমভাগেই বাংলাদেশের আকাশে দেখা মিলেছিল একাধিক গ্রহের কুচকাওয়াজ ও পূর্ণিমার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে মহাজাগতিক আরেকটি চমক। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাতের আকাশ সাজবে নতুন সাজে—যেখানে থাকবে লাইরিড উল্কাপাতের ঝলকানি এবং গ্রহদের কক্ষপথের পরিবর্তনের স্পষ্ট দৃশ্য।
লাইরিড উল্কাপাত: আকাশের আতশবাজি
লাইরিড উল্কাপাত পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন উল্কাবৃষ্টি। প্রায় ২৭০০ বছর ধরে এ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিবছর এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে পৃথিবী যখন ধূমকেতু থ্যাচারের রেখে যাওয়া ধূলিকণার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে, তখনই আকাশে ঝরে পড়ে উল্কা। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে এই উল্কাপাত সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে কখনো কখনো সংখ্যাটি বেড়ে ৫০–৬০ পর্যন্তও পৌঁছায়। রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর রেখা ছুটে যাওয়া যেন প্রকৃতির নিজস্ব আতশবাজি।
গ্রহের কুচকাওয়াজ
এ সময় শুধু উল্কাপাত নয়, গ্রহদের অবস্থানও হবে বিশেষ আকর্ষণীয়। শুক্র, বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথের পরিবর্তন খালি চোখেই দেখা যাবে। আকাশে তারা ও গ্রহের মিলন যেন এক মহাজাগতিক নাট্যমঞ্চ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠন জানিয়েছে, পরিষ্কার আকাশ থাকলে শহরের আলো দূরে রেখে গ্রামাঞ্চল বা উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়ালেই এই দৃশ্য সহজে দেখা সম্ভব।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার ভেতর দিয়ে গেলে সেই কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রবল গতিতে প্রবেশের ফলে কণাগুলো জ্বলে ওঠে এবং আমরা উল্কাপাত দেখতে পাই। অন্যদিকে গ্রহদের কক্ষপথের পরিবর্তন আসলে তাদের স্বাভাবিক গতির অংশ, যা নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
বাংলাদেশের আকাশে এপ্রিল মাস যেন মহাজাগতিক উৎসবের মাস। পূর্ণিমা, গ্রহের কুচকাওয়াজ আর লাইরিড উল্কাপাত মিলিয়ে রাতের আকাশ হয়ে উঠছে এক অনন্য প্রদর্শনী। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু সৌন্দর্যের নয়, মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনেরও সুযোগ এনে দেয়।





