রুপার দাম প্রথমবার ১০০ ডলার ছাড়াল, সোনা ৫ হাজারের দোরগোড়ায়
বিশ্বের মূল্যবান ধাতুর বাজারে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রুপার স্পট দাম প্রথমবারের মতো প্রতি ট্রয় আউন্স ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই দিনে সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে প্রায় ৫ হাজার ডলার স্পর্শ করেছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই তীব্র মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারী, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রুপার এই মাইলফলক অতিক্রমকে অনেক বিশ্লেষক ‘সিলভারের নতুন যুগের সূচনা’ বলে আখ্যায়িত করছেন। কমেক্সে (Comex) লেনদেনের সময় রুপার দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১০১ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। কিছু সময়ে এটি ১০৩ ডলার পর্যন্ত ছুঁয়েছে। সোনার ক্ষেত্রে স্পট দাম ৪,৯৮৮ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে রেকর্ড গড়েছে, যা মাত্র কয়েক দিন আগেও অকল্পনীয় মনে হতো।
এই তীব্র উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। গত বছর (২০২৫) রুপার দাম প্রায় ১৪৭ শতাংশ বেড়েছিল, আর ২০২৬-এর প্রথম কয়েক সপ্তাহেই আরও ৪০ শতাংশের মতো লাফ দিয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে রুপার চাহিদা আকাশছোঁয়া—সৌর প্যানেল, ইলেকট্রিক যানবাহন, ইলেকট্রনিক্স, ৫জি প্রযুক্তি ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে রুপারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে খনি উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি, যার ফলে বছরের পর বছর সরবরাহের ঘাটতি (structural deficit) চলছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতির ভয়, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা-রুপা কেনার প্রবণতা এই উত্থানকে আরও জোরালো করেছে। অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখলেও রুপার দ্বৈত ভূমিকা (industrial + safe-haven) এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপার সোনার তুলনায় অনেক বেশি ‘আন্ডারভ্যালুয়ড’ ছিল, এখন সেই ফাঁক পূরণ হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেন, ২০২৬-এর শেষ নাগাদ রুপার দাম ১৫০-২০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে সোনা-রুপার গহনা ও বিনিয়োগের প্রতি মানুষের ঝোঁক দীর্ঘদিনের। সোনার দাম বাড়ায় বিবাহ-শাদি মৌসুমে পরিবারগুলোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে। রুপার দামের এই লাফ সাধারণ মানুষের জন্যও চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ অনেকে ছোটখাটো বিনিয়োগ বা গহনায় রুপা রাখেন। তবে শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য এটি সতর্কতার ঘণ্টা—রুপা-নির্ভর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই র্যালি কতদিন টিকবে তা নির্ভর করবে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ, সুদের হারের দিকনির্দেশনা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। কেউ কেউ মনে করেন, এটি একটি স্পেকুলেটিভ ফ্রেনজি, যা যেকোনো সময় সংশোধনের মুখে পড়তে পারে। তবে বেশিরভাগই একমত যে, দীর্ঘমেয়াদে রুপা ও সোনার দাম উচ্চতর স্তরেই থাকবে।





