যেকোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমান সরকার দেশে সংঘটিত যেকোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড—কোনো অপরাধকেই সরকার তামাদি হতে দেবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘শহীদনামা’ শীর্ষক একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আপসহীন।
অপরাধের বিচার ও সরকারের অবস্থান
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রে নৃশংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, একাত্তরের গণহত্যা যেমন জাতির ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়, তেমনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাও এক গভীর ক্ষত। মন্ত্রীর মতে, দীর্ঘ সময় পার হলেও অপরাধের গুরুত্ব কমে যায় না। তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের ব্যথিত করে। প্রতিটি নিরপরাধ মানুষের রক্তের হিসাব বর্তমান সরকার আদায় করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার পালাবদলের পর নবগঠিত জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও শোকবার্তা জানিয়েছে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা। রাষ্ট্র যে প্রতিটি অন্যায়ের বিচার করতে চায়, সংসদের সেই প্রস্তাবটি ছিল তারই প্রথম ধাপ।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বর্তমান নেতৃত্বের রাজনৈতিক দর্শনের কথা। মন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় সরকার একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে। যেখানে অতীতের সকল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন কায়েম করা হবে। শাপলা চত্বরের ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট নাগরিক ও শাপলা স্মৃতি সংসদের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া থমকে ছিল বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করবে।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় মিলনায়তনে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে, যা উপস্থিত দর্শকদের ২০১৩ সালের সেই রাতের ঘটনার ভয়াবহতা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
পরিশেষে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি। কোনো অপরাধই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে না—এই বার্তা যদি সরকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবেই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
ভবিষ্যতে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালতের মাধ্যমে কীভাবে অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে ‘শহীদনামা’র প্রকৃত সার্থকতা।





