মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: দুই দেশের নতুন যুগের সূচনা
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করতে তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজপ্রাসাদ ইস্তানা নেগারায় দেশটির ১৭তম রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও নতুন কূটনৈতিক দ্বয়ার উন্মোচনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।
সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে কুয়ালালামপুরের রাজপ্রাসাদে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাজপ্রাসাদের ঐতিহ্যবাহী প্রটোকল মেনে তাকে রাজার মূল দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রাজকীয় পরিবেশে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ আবহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার রাজা কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধন জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মালয়েশিয়া সফরের এই পর্যায়ে এসে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত অবস্থান চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত—শ্রমবাজার উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নতুন মালয়েশিয়া বিনির্মাণে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও পেশাজীবীদের অবদানকে অত্যন্ত মূল্যায়নের চোখে দেখে কুয়ালালামপুর। একই সাথে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও উভয় নেতা একমত পোষণ করেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং আসিয়ানের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি বেশ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে যে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, সেই সংকটের একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের জন্য আসিয়ানের কার্যকর মধ্যস্থতা কামনা করা হয়।
মালয়েশিয়া যেহেতু আসিয়ানের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্র, তাই রাজা সুলতান ইব্রাহিমের কাছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। রাজা এই মানবিক সংকটের যৌক্তিক সমাধানের পক্ষে তার দেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে এক পারিবারিক ও সুদৃঢ় সংযোগের আবহ দেখা গেছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রানি রাজা জারিথ সোফিয়া।





