ভোটের নিরাপত্তায় ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠেই থাকছে সেনাবাহিনী
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই চার্টার গণভোটকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের আগের চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিনসহ মোট সাত দিন সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সেই হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে টহল ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
সাত দিনের নিরাপত্তা মিশন: মাঠে ১ লাখ সেনা
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ জানান, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এবার ভোটের পরের সময়টাকেও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি।
তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই বাহিনীগুলো মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার পরেও কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতা এড়াতে তারা আরও দুই দিন অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।”
এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড এবং আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে সারাদেশে এক বিশাল নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়: কী থাকছে তদারকিতে?
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের মোতায়েনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ড্রোনের ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা ও পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর বাড়তি নজরদারি থাকবে। রিটার্নিং অফিসারদের অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করবে এই বাহিনীগুলো। এছাড়া ‘ইলেকশন সিকিউরিটি অ্যাপ-২০২৬’ এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
গণতন্ত্রের উৎসব বনাম চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদের এই ঘোষণা ভোটারদের মনে স্বস্তি জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে বাহিনীর নিরপেক্ষতা এবং সমন্বিত কার্যক্রমই হবে সফলতার চাবিকাঠি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পরের দুই দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, কারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ শঙ্কামুক্ত হয়ে ঘরে ফিরতে পারবে এবং উৎসবের আমেজ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
এক নজরে নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিসংখ্যান:
-
মোট মোতায়েন: প্রায় ৯ লাখ সদস্য (সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য)।
-
সেনাবাহিনীর সদস্য: প্রায় ১ লাখ।
-
দায়িত্ব পালনের সময়সীমা: ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি (মোট ৭ দিন)।
-
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
-
বিশেষ প্রযুক্তি: ৪১৮টি ড্রোন এবং ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
-
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্রকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।





