প্রকাশ্য অডিওতে পরীমণিকে হত্যার হুমকি!
ঢালিউডের আলোচিত ও বিতর্কিত চিত্রনায়িকা পরীমণি আবারও খবরের শিরোনামে, তবে এবার কোনো সিনেমা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে নয়—সরাসরি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোনে পাওয়া সেই ভয়াবহ হুমকির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই, যা নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় বইছে উদ্বেগের ঝড়।
কী ছিল সেই কল রেকর্ডে?
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরীমণি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩৭ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ আপলোড করেন। অডিওটিতে শোনা যায়, অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি অত্যন্ত অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি পরীমণিকে সরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, “তোকে গুলি করে মেরে ফেলব।”
পুরো সময়জুড়ে পরীমণিকে বিচলিত মনে হলেও তিনি ফোনের ওপাশ থেকে আসা আক্রমণাত্মক কথাগুলো রেকর্ড করতে সক্ষম হন। অডিওটি পোস্ট করার পরপরই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভক্তরা যেমন তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জেগেছে—কে এই ব্যক্তি আর কেনই বা প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সেলিব্রিটিকে এভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে?
ঘটনার নেপথ্য ও প্রেক্ষাপট
পরীমণি বরাবরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই তিনি ভক্তদের সাথে শেয়ার করেন। তবে এবারের বিষয়টি কেবল সাইবার বুলিং বা ট্রোলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন শীর্ষস্থানীয় নায়িকার নিরাপত্তা যখন এভাবে বিঘ্নিত হয়, তখন তা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই আশঙ্কাজনক।
এর আগেও বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতা এবং ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ এর আগে এভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। অডিওটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, হুমকিদাতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং কোনো নির্দিষ্ট আক্রোশ থেকেই এমন আচরণ করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর পরীমণির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, “আমাদের দেশের শিল্পীরা অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পরীমণির সাহসী পদক্ষেপ যে তিনি অডিওটি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এখন রাষ্ট্রের উচিত তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা।”
পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তাদের নজরে এসেছে। তবে পরীমণি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সাধারণত এ ধরণের ক্ষেত্রে কল রেকর্ড ট্র্যাকিং করে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করা সম্ভব।





