ফিচার স্বাস্থ্য

ভরা পেটে ফল খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

ভরা পেটে ফল খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক মানুষ ভারী খাবারের পর ফল খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখেন। কেউ মিষ্টির বিকল্প হিসেবে, আবার কেউ স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে ফল খান। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবারের ঠিক পরপর ফল খেলে শরীর সব পুষ্টি পায় না, বরং হজমের সমস্যাও বাড়তে পারে।

ফল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান। এতে থাকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ—যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। চিকিৎসকরা নিয়মিত ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুষ্টিবিদরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনছেন—ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে সাধারণত দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের পর অনেকেই এক বাটি ফল খেয়ে থাকেন। আবার অনেক পরিবারে ফলকে ডেজার্ট বা মিষ্টির বিকল্প হিসেবেও পরিবেশন করা হয়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস সবসময় শরীরের জন্য উপকারী নাও হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। যখন ভারী খাবারের ঠিক পরপর ফল খাওয়া হয়, তখন ফল পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে। ফলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল সাধারণত দ্রুত হজম হয়। কিন্তু ভারী খাবারের সঙ্গে বা তার পরপর ফল খেলে সেই স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে অনেকের গ্যাস, পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা হালকা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঢাকার কয়েকজন পুষ্টিবিদ জানান, ফলকে আলাদা খাবার হিসেবে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অর্থাৎ প্রধান খাবারের আগে বা মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতি রেখে ফল খেলে শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এতে ফলের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বেশি কার্যকরভাবে শরীরে কাজ করে।

আরেকটি বিষয় হলো, অনেক ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে। ভারী খাবারের পর তা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তাদের ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার সময় নির্বাচন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাত্রায় হজমজনিত সমস্যার একটি বড় কারণ হচ্ছে ভুল খাদ্যাভ্যাস। খাবারের সময়, পরিমাণ ও সংমিশ্রণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে অনেক সমস্যাই সহজে এড়ানো সম্ভব।

মূল তথ্য সংক্ষেপে:

  • ফল পুষ্টিকর হলেও ভারী খাবারের পরপর খাওয়া সবসময় উপকারী নয়।
  • ভাত বা রুটি জাতীয় কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়।
  • ভারী খাবারের পর ফল খেলে পাকস্থলীতে তা আটকে থাকতে পারে।
  • এতে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • বিশেষজ্ঞরা সাধারণত খাবারের অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে বা পরে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুধু কী খাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে না—বরং কখন এবং কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফলের সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে সঠিক সময় বেছে নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ কিন্তু কার্যকর একটি উপায়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার