নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ
সারাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর উত্তর গেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
সমাবেশস্থলে বিকেল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। জাতীয় পতাকা ও দলীয় ব্যানার হাতে তারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আয়োজকরা বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, এমনকি নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, “ভোট শেষ হয়েছে, কিন্তু সহিংসতা বন্ধ হয়নি—এ বাস্তবতা জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশস্থল হিসেবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট বহুবার বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির সাক্ষী হয়েছে। এবারও সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন, যাতে সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের নেতারা দাবি করেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা নেয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি পদক্ষেপ চাওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিবারই এটি রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও গভীর করে তোলে। বিরোধী জোটের এ ধরনের কর্মসূচি একদিকে যেমন জনমত সংগঠনের কৌশল, অন্যদিকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিরও একটি উপায়।
সমাবেশে বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও তারা স্পষ্ট করেন, সব কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, যে কোনো সহিংসতার ঘটনা প্রমাণ সাপেক্ষে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





