নির্বাচনে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’: আইজিপি বাহারুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে প্রাক-নির্বাচনি সভায় পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জনবান্ধব পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই নির্দেশনা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার বার্তা বহন করছে।
আইজিপির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ভয়ের পরিবেশ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীকে নিরপেক্ষতার ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে দেখতে চান আইজিপি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ সহ্য করা হবে না। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে ধৈর্য, সতর্কতা ও আইনের শাসনের প্রতি অটল থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের এই সভায় আইজিপি আরও জোর দেন যে, পুলিশের কাজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়—জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করাও। তিনি বলেন, “জনবান্ধব পুলিশিং মানে শুধু সেবা নয়, বিশ্বাস অর্জন। ভোটাররা যাতে ভয়মুক্ত হয়ে কেন্দ্রে যান, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” এছাড়া উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, যা স্বচ্ছতা বাড়াবে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আগেই কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে-পরে কোনো ইউনিট প্রধান আইজিপির অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এটি শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
আইজিপি জানিয়েছেন, প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা রক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।





