সরকার কোনো দল নয়, অপরাধীদের জামিনের বিরোধী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সরকার কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পক্ষে নয়, বরং অপরাধীদের জামিনের বিরোধী—এমন স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে মূলত কৃষিখাতের সার্বিক পরিস্থিতি, উৎপাদন, সরবরাহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে আসে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধীরা ছাড় পাচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য আসে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সরকার কোনো অবস্থাতেই অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না। অপরাধী অপরাধীই—সে যে পরিচয়েরই হোক না কেন। এখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা অন্য কোনো সংগঠনের প্রশ্ন নেই। সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে।” তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসনের প্রতি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করা হলো।
তিনি আরও জানান, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের এখতিয়ার। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং আদালতের সামনে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা। “আমরা চাই, কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যায়,”—যোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের জামিন পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধীরা আইনি সুবিধা পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যকে সেই অভিযোগের সরাসরি জবাব হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, “রাজনৈতিক নির্বিশেষে অপরাধ দমনের ঘোষণা ইতিবাচক। তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটাতে হলে তদন্তের মান ও বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো জরুরি।”
কৃষি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ব্রিফিংয়ে কৃষিখাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কৃষিসহ কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন তাই সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন দর্শনের অংশ।





