অর্থ-বাণিজ্য ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

নিত্যপণ্যে আগুন: ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে ৯.৩০ শতাংশ

নিত্যপণ্যে আগুন: ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে ৯.৩০ শতাংশ

চাল, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে।

রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। বাজারে চাল, ডাল, সবজি ও প্রাণিজ প্রোটিনের দামের ধারাবাহিক বৃদ্ধিই মূলত এই প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণ মূল্যস্ফীতিতেও ঊর্ধ্বগতি

শুধু খাদ্যপণ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। জানুয়ারি মাসে এটি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসেবে সামান্য কমলেও মাসওয়ারি হিসেবে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বাজারে কেন বাড়ছে দাম

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মৌসুমি প্রভাব এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তা।

বিশেষ করে শীত শেষে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে আসা, মাছ ও মাংসের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভর কিছু পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া—এসব বিষয়ও খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করেছে।

ঢাকার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চাল, ডাল, ডিম, মাছ ও সবজির দামে হঠাৎ বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

মানুষের জীবনে প্রভাব

মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে যাদের আয় সীমিত, তাদের জন্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়া মানে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়া।

অর্থনীতিবিদদের মতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়লে তা সরাসরি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা, পণ্যের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে আমদানি বাড়ানোর মতো নীতিগত পদক্ষেপ নিলে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ব্যবসা-বাণিজ্য

২৫০ কর্মীর অসুস্থতায় বন্ধ হওয়া অ্যাপলের প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে

নিম্নমানের খাবার খেয়ে ২৫০ জন কর্মী অসুস্থ হওয়ার প্রায় ১ মাস পর চালু হতে যাচ্ছে অ্যাপলের পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের চেন্নাই