দেশে আরও উদ্যোক্তা চান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে এর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বেঙ্গল মিটের মতো উদ্যোগ অনুসরণ করে দেশে আরও উদ্যোক্তা এগিয়ে আসবেন, যা প্রাণিসম্পদ খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় অবস্থিত এই প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না, বেঙ্গল মিটের হেড অব প্রকিউরমেন্ট ছায়াদুল হক ভূঁইয়া (আল-আমিন) এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্ল্যান্টের উন্নত মাংস প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো, এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সুবিধা এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বেঙ্গল মিটের এই উদ্যোগ শুধু মাংস প্রক্রিয়াকরণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখছে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার প্রশংসনীয়। এ ধরনের শিল্প দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।”
ফরিদা আখতার জানান, বেঙ্গল মিটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ খামারিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে তাদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “এই শিল্পগুলো প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করছে। স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গুণগত মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।”
পরিদর্শন শেষে বেঙ্গল মিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং প্রণোদনার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সরকার এই ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই, আরও উদ্যোক্তা এগিয়ে এসে প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করুক।”
বেঙ্গল মিটের হেড অব প্রকিউরমেন্ট ছায়াদুল হক ভূঁইয়া জানান, তাদের প্ল্যান্টে প্রতিদিন শতাধিক গবাদি পশু প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে তাদের পশুর গুণগত মান উন্নত করছি। উপদেষ্টার পরিদর্শন আমাদের আরও উৎসাহিত করেছে।”





