ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার আগে সেনাপ্রধানের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নবনির্বাচিত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের খবরটি নিশ্চিত করেছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠকে ঢাকা-দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক। তবে নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আনুষ্ঠানিক বৈঠক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতকে আরও জোরদার করার একটি অগ্রিম বার্তা।
দীর্ঘ ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্তে চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং কাঁটাতারের ওপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীরও পরোক্ষ ভূমিকা থাকে। বৈঠকে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং কূটনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী এই সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও নিশ্ছিদ্র করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সামরিক যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের সফর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই ধারা আরও বেগবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বঙ্গোপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক বোঝাপড়া কতটা গভীর, এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দেয়।
দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, নতুন হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে ভারতের প্রতিরক্ষা স্বার্থ এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তিগুলোর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন সেনাপ্রধান। বাংলাদেশ যেভাবে সামরিক আধুনিকায়নের দিকে এগোচ্ছে, সেখানে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (ডিফেন্স লাইন অফ ক্রেডিট) ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো নিয়ে দুই কর্মকর্তার মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হয়েছে।





