জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কোনো চুক্তি নয়: মির্জা ফখরুল
দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের আপস বা চুক্তি করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় দেশের চলমান ভূরাজনীতি ও নদীর ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় থাকার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে ফারাক্কা ও অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তির সুরাহার ওপর নির্ভর করছে।
মির্জা ফখরুল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, “সম্পর্ক কখনো একতরফা হতে পারে না। বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা।” তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আলোচনার টেবিলে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। “ইনশাআল্লাহ, দেশের মানুষের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সবার আগে রক্ষা করা হবে,” যোগ করেন তিনি।
১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের স্মৃতি চারণ করে বক্তারা বলেন, সেই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল যেভাবে মরুভূমি হতে চলেছে, তা রুখতে মওলানা ভাসানী যে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা সভায় সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অভিমত দেন যে, দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও ফারাক্কা সংকটের স্থায়ী ও সুষম সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে। উল্টো শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ তীব্র পানিশূন্যতায় ভোগে এবং বর্ষায় হঠাৎ পানি ছাড়ার ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা। এই ধরনের অসম পরিস্থিতি একটি স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।





