কোথায় আটকে আছে ইরানের বিপুল বৈদেশিক সম্পদ?
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় এখন সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হলো তেহরানের জব্দ হয়ে থাকা বিপুল বৈদেশিক সম্পদ। তেল বিক্রির আয় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, সবই আটকে আছে বিভিন্ন দেশে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ মুক্তি পেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
কোথায় আটকে আছে এই অর্থ?
ইরানের বৈদেশিক সম্পদের বড় অংশ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারত, ইরাক এবং চীনের মতো দেশগুলোতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব দেশ ইরানের তেল ও গ্যাস কেনার পর অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ কার্যত অচল হয়ে আছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে বলে জানা যায়। একইভাবে জাপান ও ভারতের ব্যাংকগুলোতেও কয়েক বিলিয়ন ডলার জমে আছে। ইরাকের ক্ষেত্রে তেল ও বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অর্থ আটকে আছে, যা তেহরানের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।
কেন জব্দ হলো এই সম্পদ?
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কারণে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে ইরানের তেল বিক্রি সীমিত হয়ে যায় এবং যে অর্থ আয় হতো, তা বিদেশি ব্যাংকে আটকে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অর্থ মুক্তি দিলে তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার হতে পারে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি তাদের বৈধ আয় এবং জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য প্রয়োজন।
অর্থনীতিতে প্রভাব
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের চাপে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই জব্দ অর্থ মুক্তি পায়, তবে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস খাতেও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইরান বারবার এই অর্থ মুক্তির দাবি তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলোও ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া অর্থ ছাড়তে পারছে না। ফলে আলোচনার টেবিলে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের জব্দ হয়ে থাকা বৈদেশিক সম্পদ শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থ মুক্তি পেলে তেহরানের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়বে।





