একুশে পদক ২০২৬: ববিতা-আইয়ুব বাচ্চুসহ ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে পদক
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক ২০২৬-এর জন্য ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দলকে মনোনীত করেছে সরকার। কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা ফরিদা আক্তার ববিতা, প্রয়াত আইকনিক গায়ক আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর) এবং প্রথমবারের মতো রক ব্যান্ড ওয়ারফেজসহ এই তালিকায় স্থান পেয়েছে চলচ্চিত্র, সংগীত, স্থাপত্য, নৃত্য, নাটক, সাংবাদিকতা ও শিক্ষার গুণীজনেরা। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই ঘোষণা দেন।
একুশে পদক শুধু পুরস্কার নয়—এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় স্বীকৃতি। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত হয় এই সম্মাননা, যা শিল্প-সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা-সাংবাদিকতা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করে। এবারের তালিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এতে প্রথমবার কোনো রক ব্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের যুবসংস্কৃতি ও বিকল্প সঙ্গীতধারার প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, প্রযোজনার মাধ্যমেও বাংলা সিনেমার গুণগত মান বাড়াতে ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে আইয়ুব বাচ্চু—যিনি এলআরবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলা রকের পথিকৃৎ—মৃত্যুর পরও তাঁর গিটারের সুর ও কণ্ঠ দেশের লাখো তরুণের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাঁর মরণোত্তর পদক সেই অবদানের প্রতি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতি।
ওয়ারফেজের মনোনয়ন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ তিন দশকের যাত্রায় এই ব্যান্ড বাংলা রককে শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক বার্তা ও প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মিরপুর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠার মুহূর্তে খবর পেয়ে তারা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে—এটি যেন তাদের সংগ্রামের এক স্বীকৃতি।
অন্যান্য বিজয়ীরা সমানভাবে উজ্জ্বল। স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্থাপত্যকে তুলে ধরেছেন। নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ নৃত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। নাট্যকার ইসলাম উদ্দিন পালাকার লোকজ নাট্যধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাংবাদিকতায় শফিক রেহমানের নিরপেক্ষ ও সাহসী লেখনী দীর্ঘদিন ধরে সমাজের দর্পণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদারের অবদান শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। চারুকলায় ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও ভাস্কর্যে তেজস হালদারের সৃজনশীলতা দেশীয় শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।





