ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু করলেও দুর্ভিক্ষ ও সংঘাত অব্যাহত
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, তারা আকাশপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠাবে এবং গাজায় নির্দিষ্ট মানবিক করিডোর খুলবে।
গত ২৬ জুলাই (শনিবার) ইসরায়েল সাতটি ত্রাণ প্যাকেজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে। এর আগে, গত মার্চে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, যদিও মে মাসের শেষে সীমিতভাবে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্যারাস্যুটের মাধ্যমে গাজায় ত্রাণ ফেলা হয়েছে এবং জাতিসংঘের ত্রাণবাহী কনভয়ের জন্য নির্দিষ্ট করিডোর বরাদ্দ করা হবে।
তবে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল, অকার্যকর এবং বিপজ্জনক।
ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে কার্যকর নয় এবং ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা ইসরায়েলের প্রতি সড়কপথে আরও বেশি ত্রাণ কনভয় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে গাজায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
একই দিনে, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ‘হান্দালা’ নামে একটি ত্রাণবাহী নৌকা গাজার দিকে অগ্রসর হলে ইসরায়েলি সেনারা তা জব্দ করে। লাইভ ফিডে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর নৌকাটির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত মাসে ‘ম্যাডেলিন’ নামে আরেকটি ত্রাণবাহী নৌযানে ইসরায়েল অভিযান চালিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, গাজায় শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দিচ্ছে না, বরং জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা সংগ্রহ করছে না।
কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েল কঠোরভাবে গাজার সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ত্রাণ সরবরাহে প্রধান বাধা।
গাজায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, গাজার এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা অভুক্ত অবস্থায় দিন পার করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য জর্ডানসহ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে ত্রাণ সরবরাহে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি, ইসরায়েলকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।
গাজার বাসিন্দারা ক্ষুধা ও যুদ্ধের দ্বৈত সংকটে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বর্তমান পদক্ষেপ যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলছে, শুধুমাত্র স্থলপথে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহই গাজার দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ করতে পারে।





