মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুমা (৩৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান মাসুমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাসুমার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল, যার কারণে তিনি গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে, একই দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষার্থী জারিফ নামে আরও একজন মারা যান।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ৪০ জনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই পাঁচজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই গুরুতর দগ্ধ এবং তাদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গত সোমবার (২১ জুলাই) উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন কলেজের মূল ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান, যা নিয়মিত প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে এবং তাদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।





