আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক এসআই রাজসাক্ষী
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে গৃহীত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঞ্জুর করেছে।
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করার শর্ত রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাজতে রাখা হবে এবং উপযুক্ত সময়ে তিনি সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবেন।
এর আগে, শুনানি চলাকালে শেখ আবজালুল হক মৌখিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। তার আইনজীবী শেখ মুস্তাভী হাসানও লিখিত আবেদনের মাধ্যমে এই বিষয়টি উল্লেখ করেন, যদিও প্রাথমিক আবেদনে কিছু ত্রুটি ছিল।
ট্রাইব্যুনাল তাকে বেলা ২টার মধ্যে সংশোধিত আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও পদক্ষেপ নিতে বলেন। বেলা ২টায় আবেদন জমা পড়লে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল, যার অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর, তা মঞ্জুর করেন।
এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই আটজনের মধ্যে শেখ আবজালুল হকই একমাত্র রাজসাক্ষী হিসেবে গৃহীত হয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ও সূচনা বক্তব্যের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও আসামি। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে পলাতক, আর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করছেন।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাগুলোতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল নিয়মিত শুনানি পরিচালনা করছে।





