আরএডিপি প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার কড়া নির্দেশ তথ্যমন্ত্রীর
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে তা সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবার মান পৌঁছে দিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই পর্যালোচনা সভাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ঝুলিয়ে রাখার সনাতন সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি রাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপস বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি পয়সার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালকদের মাঠপর্যায়ে কাজের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সম্প্রচার খাতের আধুনিকায়ন এবং সরকারি গণমাধ্যমগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, জবাবদিহিতা ও দক্ষতার মাধ্যমেই কেবল একটি টেকসই প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
আরএডিপি পর্যালোচনা সভার মূল নির্দেশনা
মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিচে তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
-
নির্ধারিত ডেডলাইন: ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আওতাধীন প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শেষ করতে হবে।
-
কোয়ালিটি কন্ট্রোল: নির্মাণ বা সংস্কার কাজসহ সব ধরনের সেবামূলক প্রকল্পের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না।
-
অর্থের সঠিক ব্যবহার: প্রকল্পের বরাদ্দকৃত বাজেটের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপচয় রোধে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
-
সমন্বিত তদারকি: প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এবং সংশ্লিষ্ট উইং প্রধানদের মধ্যে কাজের নিয়মিত সমন্বয় ও ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের এই কঠোর ও দিকনির্দেশনামূলক অবস্থান যদি মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়িত হয়, তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এক নতুন গতিশীলতা আসবে।
নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করার এই রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি কেবল এই মন্ত্রণালয়ের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।





