আয় ২২ কোটি, ব্যয় ১৫ কোটি: ইসিতে বিএনপির বার্ষিক হিসাব জমা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা দাবি বিবেচ্য নয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অন্য দলের দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে রিজভী বলেন, “এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, তাই কে নির্বাচন করতে পারবে আর কে পারবে না—তা প্রচলিত ও নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী আদালত এবং নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। অন্য দল কী বলল, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা বিষয়টি ইসির ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।”
বিএনপির প্রার্থিতা বাছাইয়ের বিষয়ে তিনি জানান, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বৈঠকে বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কাউন্সিল প্রসঙ্গে
আগামী ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “কাউন্সিল অবশ্যই হবে। দলের মহাসচিব, চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারিখ ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খুব দ্রুতই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
ইসিতে বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা
এর আগে দুপুরে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করে। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে দলের তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। সদস্যদের চাঁদা, অনুদান ও মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে এই আয় এসেছে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে এই টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর জন্য অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।





