জাতীয় ফিচার

‘আমার আসনেই যদি ভয় দেখানো হয়, অন্যদের অবস্থা কী?’

ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, ব্যানার ছেঁড়া ও সমর্থকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার আসনেই যদি এমন হয়, অন্যদের অবস্থা কেমন, বুঝে নিন।”

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দিনভর গণসংযোগ ও পথসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ‘ভীতিকর পরিবেশ’ তৈরি করে নির্বাচনি লড়াইকে অসম করতে চাইছে।

‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রচারণায় বাধা

নাহিদ ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনি প্রতীক ‘শাপলা কলি’। এই প্রতীক নিয়ে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টানানো হলেও রাতের আঁধারে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কর্মীদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“আমাদের কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফোন করে বলা হচ্ছে প্রচারণা বন্ধ রাখতে। এটা কি গণতান্ত্রিক নির্বাচন?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ নয়, বরং ভোটারদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে অংশগ্রহণ কমিয়ে দেওয়ার কৌশল।

ইসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

“ইসিকে জানিয়েছি। কিন্তু মাঠে কোনো পরিবর্তন নেই। যদি প্রার্থীর নিজের আসনেই নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সুষ্ঠু ভোটের আশা কীভাবে করব?”—বলেন নাহিদ।

তার মতে, নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ না থাকলে ছোট দল ও নতুন প্রার্থীরা সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বেশি। বড় দলগুলোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোও ভোটের মাঠে সক্রিয়। ফলে পোস্টার ছেঁড়া, কর্মীদের বাধা দেওয়া বা প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।

ঢাকা-১১ আসন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভোটের ফলাফল অনেক সময় বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দেয়। তাই এই আসনে উত্তেজনা তুলনামূলক বেশি থাকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রার্থীদের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন কর্মী জানান, রাতের বেলায় টাঙানো ব্যানার সকালে আর পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অচেনা লোকজনের নজরদারির কথাও বলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গণতন্ত্রের শক্তি নির্ভর করে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতার ওপর। যদি প্রচারণার মঞ্চেই ভয়-ভীতি ছায়া ফেলে, তাহলে ভোটের দিন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঢাকা-১১–এর অভিযোগগুলো তাই শুধু একটি আসনের নয়—এগুলো পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। এখন দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র