অর্থ-বাণিজ্য ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও আপাতত বাড়ছে না জ্বালানি তেলের মূল্য’

'আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও আপাতত বাড়ছে না জ্বালানি তেলের মূল্য'

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও আপাতত দেশে মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি যতদিন বৈশ্বিক চাপ সহ্য করতে পারবে, ততদিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অনেক দেশেই পড়েছে। তবুও বাংলাদেশ সরকার এখনো পর্যন্ত দেশের মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এমনকি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যেও মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্ট। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালনে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রতি গ্যালনে ৭০ থেকে ৭৫ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। সরকারের এই অবস্থান মূলত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের দুঃখ-কষ্ট সম্পর্কে সচেতন। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ থাকলেও আমরা চেষ্টা করছি যেন দেশের মানুষকে নতুন করে আর্থিক বোঝা বহন করতে না হয়।”

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকলে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব দেখা যায়। এ কারণেই সরকার সাধারণত এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে সরকার স্বল্পমেয়াদে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং ভর্তুকির চাপও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

মূল তথ্য এক নজরে:

  • আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো বাড়ানো হয়নি।
  • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানিয়েছেন।
  • বিশ্বের প্রায় ৮৫টি দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৫০–৬০ সেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৭০–৭৫ সেন্ট পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
  • দেশের অর্থনীতি যতদিন চাপ নিতে পারবে, ততদিন দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করবে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ব্যবসা-বাণিজ্য

২৫০ কর্মীর অসুস্থতায় বন্ধ হওয়া অ্যাপলের প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে

নিম্নমানের খাবার খেয়ে ২৫০ জন কর্মী অসুস্থ হওয়ার প্রায় ১ মাস পর চালু হতে যাচ্ছে অ্যাপলের পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের চেন্নাই