২২ দিনের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে জন্ম যমজের; ১ জনের মৃত্যু
যুক্তরাজ্যে ২২ দিনের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে যমজ সন্তানের জন্ম যা চিকিৎসকদেরকে অবাক করেছে।
সন্তান জন্মদানের পর নিজেও অবাক হয়েছিলেন কাইলি ডয়েল নামে ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী মা। সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
আজ অবধি, আমি এখনও যুক্তরাজ্যে এমন একজন নারীকে খুঁজে পাইনি যিনি ২২ দিনের ব্যবধানে দুই যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
২০২০ সালের অক্টোবরে অন্তঃসত্ত্বা হন ডয়েল। তখনই জানতে পারেন তার যমজ সন্তান হবে। তার সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও স্বাভাবিক ছিল বলেই জানান তিনি। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৫ মার্চ তার প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি।
ডয়েল বলেন, যমজ সন্তানের জন্মদানের ক্ষেত্রে যেসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সেসব সম্পর্কে আমি সচেতন ছিলাম। এমনকি আমি ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখেছি। কারণ আমি জটিলতা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, যখন আমার গর্ভধারণ সাড়ে ২২ সপ্তাহে গড়ালো, আমি আক্ষরিক অর্থে বিছানায় পড়লাম এবং চরম ব্যথা উঠলো। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না যে কি ঘটছে। এমতাবস্থায় আমি নিচতলার টয়লেটে গেলাম এবং সেখানে আমার পানি ভেঙ্গে গেল।
ডয়েল জানান, এরপর তাকে দ্রুত রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাঁচদিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ২০২১ সালের ২০ মার্চ ভোরে স্বাভাবিকভাবেই একটি ছেলে বাচ্চার জন্ম দেন তিনি।
অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১৭ সপ্তাহ আগেই প্রথম বাচ্চা জন্ম নেয়। আর তার ওজন ছিল মাত্র ১ দশমিক ১ পাউন্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ডাক্তারদের অনুমান, প্লাসেন্টায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এমনটা হতে পারে।
সে দেখতে একটা স্বাভাবিক শিশুর মতোই ছিল। তাকে জন্ম দেয়ার পর ডাক্তাররা আমার সাথে বসলেন এবং আমাকে বললেন যে, অপর বাচ্চাটিরও বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ এবং সে সম্ভবত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জন্ম নেবে।
কিন্তু ডাক্তারের অনুমান ভুল প্রমাণ করে অপর বাচ্চাটি। সে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জন্ম নেয়নি। ডয়েলকে বিশ্রামের জন্য বাড়িতে পাঠানো হয়। ডয়েল বলেন, প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়ার মানসিক আঘাতের পর যখন তারা বললো যে আমি বাড়ি যেতে পারি তখন আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
আরও পড়ুনঃ “নির্বাচনে প্রশাসন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে না”





