হামের প্রকোপ: ঝুঁকির মুখে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য
দেশে আশঙ্কাজনক হারে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমবর্ধমান শিশু মৃত্যু ও সংক্রমণ রোধে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সশরীরে ও অনলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে নতুন শিক্ষাসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসাথে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সপ্তাহে তিনদিন সরাসরি এবং তিনদিন ভার্চুয়াল ক্লাসের এই মডেল কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন আক্রান্তের খবর আসার পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণের অন্যতম উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং দেশের চলমান জ্বালানি সাশ্রয় নীতিকে ত্বরান্বিত করতে শিক্ষামন্ত্রী একটি দ্বিমুখী সমাধান পেশ করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভায় মন্ত্রী জানান, “আমাদের শিশুদের সুরক্ষা সবার আগে। বর্তমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা তিনদিন সশরীরে এবং তিনদিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব করছি। এতে জনসমাগম কমবে এবং সংক্রমণের শিকল ভাঙা সহজ হবে।”
তবে কেবল শারীরিক অসুস্থতাই নয়, দীর্ঘ সময় গৃহবন্দী থাকা বা অনিয়মিত স্কুলিং শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অনলাইন ক্লাসের দিকে ফিরে যাওয়া শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবকে ব্যাহত করছে। খেলার মাঠের অভাব এবং বন্ধুদের সাথে মেলামেশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে একঘেয়েমি, খিটখিটে মেজাজ এবং ডিজিটাল আসক্তি বাড়ছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য স্কুলের পরিবেশ অপরিহার্য। পর্দার সামনে বসে শিক্ষা গ্রহণ পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেও সামাজিক শিষ্টাচার বা দলীয় সংহতি শেখাতে ব্যর্থ হয়। হামের ভয় আর গৃহবন্দীত্বের এই দ্বৈত চাপে শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরাও।
রাজধানীর একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে গভীর উৎকণ্ঠার চিত্র। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন, বিশেষ করে যাদের উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নেই। আবার হামের ভয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতেও তারা দ্বিধাগ্রস্ত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সময়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও বাড়তি নজর দিতে হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে শিক্ষা ব্যবস্থার খাপ খাইয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে যান্ত্রিক শিক্ষার ভিড়ে শিশুদের শৈশব যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।





