‘হামলা না হলে প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা নয়’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগে আক্রমণ না এলে তাদের লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা চালাবে না ইরান।
শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এ নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ঘটনায় যেসব দেশের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার জন্য ইরান দুঃখিত।
তিনি বলেন, ইরান মূলত প্রতিরক্ষামূলক নীতি অনুসরণ করে। তবে কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আক্রমণ বা হুমকি এলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। তিনি দাবি করেন, কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
বাঘেই বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে বাধ্য হওয়ায় দুঃখিত। কিন্তু তাদের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি আমাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক কূটনৈতিক বার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ইরানের নতুন ঘোষিত নীতি একদিকে যেমন উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, সংঘাতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ ইসরায়েল পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের মতো উত্তেজনা প্রায়ই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।





