হাওরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভাসমান হাসপাতাল
হাওর অঞ্চলের মানুষের জন্য ভাসমান হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘হাওরের সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “হাওরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা ভাসমান হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি হাওরবাসীর জন্য চিকিৎসাসেবাকে আরও সহজলভ্য করবে।” তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
হাওর অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার জটিলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষাকালে এই অঞ্চল পানিতে ডুবে যাওয়ায় হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, “এই হাসপাতালগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে স্থানীয় সম্প্রদায়ের চাহিদা এবং পরিবেশগত টেকসইতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
সেমিনারে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ফারজানা আক্তার বলেন, “ভাসমান হাসপাতাল হাওর অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, এর জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।” স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাওরে চিকিৎসার জন্য আমাদের অনেক দূর যেতে হয়। ভাসমান হাসপাতাল হলে আমাদের মা-বোনদের জন্য সেবা অনেক সহজ হবে।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে এবং সফলতার ভিত্তিতে এটি সম্প্রসারিত করা হবে। তিনি বলেন, “হাওরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।”





