‘সাংবাদিকতা এমন পেশা, যেখানে চাকরির নিশ্চয়তা নেই’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, সাংবাদিকতা এমন এক পেশা, যেখানে চাকরির নিরাপত্তা প্রায় নেই বললেই চলে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ইদানিং প্রায়শই দেখা যায়, অনেক সাংবাদিক তাঁদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য সরকারি লোকজনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। এই দৃশ্যটি আমাদের জন্য বিব্রতকর। যে কলম এবং কণ্ঠ প্রতিদিন মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আওয়াজ তোলে, তারাই যখন নিজেদের প্রাপ্য অর্থটুকুর জন্য অসহায় হয়ে পড়েন—সেটি আসলে সবার জন্যই গভীর হতাশার।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সাংবাদিকতা পেশায় চাকরির নিশ্চয়তা প্রায় অনুপস্থিত। অধিকাংশ সাংবাদিকের বেতনও অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক কম। তবে সবচেয়ে বড় অবিচার ঘটে তখন, যখন একজন সাংবাদিক বহু বছরের পরিশ্রমের পর প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন এবং তাঁর প্রাপ্য টাকা-পয়সা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।”
উপ-প্রেস সচিবের মতে, টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের কর্মীরা প্রায়শই খালি হাতে ফিরে যান। পত্রিকার ক্ষেত্রে যারা ওয়েজ বোর্ডের আওতাভুক্ত, তাদের পাওনা আইনসিদ্ধ হলেও বাস্তবে সেটি পেতেও দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
তিনি এমন অনেক সাংবাদিকের উদাহরণ টেনেছেন, যারা বছরের পর বছর মনপ্রাণ উজাড় করে কাজ করেছেন, টানা মাসের পর মাস সাপ্তাহিক ছুটিও নেননি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অর্জিত ও নৈমিত্তিক ছুটিও ফেলে রেখেছেন। আইন অনুযায়ী, ১৬ বছর কাজ করলেও কেউ ছুটি না নিলে মাত্র দুই মাসের অর্জিত ছুটির অর্থ তাকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বাকি প্রায় এক বছর দুই মাসের মতো সময় তিনি কার্যত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন।
আজাদ মজুমদার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আর যখন সেই সামান্য দুই মাসের পাওনা চাইতে যাওয়া হয়, তখন এমন ব্যবহার করা হয়, যেন সাংবাদিককে ‘দয়া’ করা হচ্ছে। শ্রম আইনে মামলা করার সুযোগ থাকলেও, বাংলাদেশের মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রায়শই রায় মালিকপক্ষের অনুকূলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দশ বছরেও মামলার নিষ্পত্তি হয় না।”
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোরই শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করার কথা ছিল, “কিন্তু বাস্তবে সেগুলোও আজ অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। ইউনিয়ন নেতারা আসলে কী করেন, তা কেউ জানে না।”





