সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ পক্ষে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশনা গণভোটের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জারি করা হয়েছে, যা ভোটারদের মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই নির্দেশনা আসছে যখন দেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ভোটাররা আলাদা ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলোতে সম্মতি জানাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চললেও, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নিরপেক্ষতার নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।
ইসির এই অবস্থান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১-এর উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে কয়েকজন নির্বাচন কমিশনারও একই বার্তা দিয়েছিলেন যে, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যেকোনো সরকারি কর্মচারী যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নির্দেশনার পটভূমিতে লক্ষণীয় যে, সরকারি কর্মচারীরা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড। তাদের নিরপেক্ষতা না থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, যা ভোটারদের আস্থা কমিয়েছে। এবারের গণভোটে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকায় ইসির এই কঠোর অবস্থানকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ভোটাররা মুক্ত মনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এবং প্রশাসনের উপর জনগণের আস্থা বাড়বে।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কিছু রিপোর্টে দেখা গেছে যে, কয়েকজন সরকারি কর্মচারী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে জড়িয়ে পড়েছেন। ইসির এই নির্দেশনা তাদের জন্য সতর্কবার্তা। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে সরকারি পর্যায়ে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা যায়।





