লাইসেন্স পেতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক
এখন থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় যেকোনো হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁর ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্ত পূরণ না হলে মিলবে না নতুন লাইসেন্স, নবায়ন হবে না পুরোনোটিও।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক নীতিগত সিদ্ধান্তে এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এখন থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁর ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার আগে প্রতিবন্ধীদের ওঠা-নামার জন্য আলাদা র্যাম্প এবং বিশেষ ধরনের বাথরুম রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।”
রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর আধুনিকায়নের সমান্তরালে বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেছে সমাজের একটি বড় অংশ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকরা। চটকদার আলো আর আধুনিক অন্দরসজ্জার ভিড়ে শহরের সিংহভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁয় হুইলচেয়ার নিয়ে প্রবেশের ন্যূনতম সুযোগ থাকে না। এই সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই সরকারের এই নতুন আইনি কড়াকড়ি।
প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নির্দেশনামাত্র নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবিক নগরী গড়ে তোলার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার। এতদিন পর্যন্ত ভবনের নকশায় বা রেস্তোরাঁ তৈরিতে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতার বিষয়টি কেবল ‘উৎসাহ বা সদিচ্ছার’ ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যা এবার আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হলো।
নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব থাকবে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের ওপর। লাইসেন্স বা নবায়নের আবেদন পাওয়ার পর পরিদর্শকরা সরজমিনে রেস্তোরাঁগুলো পরিদর্শন করবেন। যেখানে প্রবেশদ্বারে হুইলচেয়ার সহজে চলাচলের জন্য ঢালু পথ বা র্যাম্প এবং ভেতরে কমোডসম্বলিত প্রশস্ত বিশেষ বাথরুম থাকবে না, তাদের আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
তবে মাঠপর্যায়ে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পুরোনো ও ছোট রেস্তোরাঁগুলোর ক্ষেত্রে স্থানাভাবের কারণে রাতারাতি এই পরিবর্তন আনা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বাণিজ্যিক স্পেসেই সামান্য কাঠামোগত পরিবর্তন এনে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।





