নির্বাচন-গণভোটের আগে লুটের অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেভাবেই হোক এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। এ নির্দেশ নির্বাচনকে নিরাপদ করার জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ। (৪৮ শব্দ)
এই নির্দেশ এসেছে নিকার (জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি)-এর সাম্প্রতিক সভায়। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে জানান, ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেছেন, লুটের অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের দিনে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে এ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনআন্দোলনের সময় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর অস্ত্রাগার থেকে বহু আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। অনেক অস্ত্র খাল-বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার কারণে উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সরকার মনে করে, এসব অস্ত্র যেকোনো মুহূর্তে অপরাধী চক্র বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে। নির্বাচনের আগে এগুলো উদ্ধার না করলে শান্তিপূর্ণ ভোটের আশঙ্কা থেকে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নির্বাচনী নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এদিকে, নির্বাচনের আগে আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বৈধ লাইসেন্সধারী প্রার্থী ও তাদের অনুমোদিত রিটেইনারদের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, লুটের অস্ত্র উদ্ধারের এই জোরালো নির্দেশ নির্বাচনী পরিবেশকে শান্ত রাখার প্রতিশ্রুতি। ২০২৪-এর আন্দোলনের পর দেশে অস্ত্রের প্রবাহ বেড়েছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। প্রধান উপদেষ্টার এ পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কিছু মহল বলছে, উদ্ধার অভিযানে রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে না—এটি নিরপেক্ষ হতে হবে।





