রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা না কি চমক: ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরতে যাওয়া ভোটাধিকার আর ক্ষমতার পালাবদলের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নিজেদের ‘তুরুপের তাস’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে দলটি। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ‘ভিশন’ ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ইশতেহার বিএনপির জন্য কেবল একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দলটির অস্তিত্ব প্রমাণের দলিল। গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি যে ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে আসছিল, তারই একটি আধুনিক ও বিস্তারিত সংস্করণ হতে যাচ্ছে এই ইশতেহার। ধারণা করা হচ্ছে, এতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার মতো বৈপ্লবিক প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের দেওয়া এই ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘রেইনবো নেশন’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন বিএনপি ফেরি করছে, তার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামীকালকের ঘোষণায়।
সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল—নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি আর অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে বিএনপি কী সমাধান দিচ্ছে? শায়রুল কবীর খান জানান, “আমাদের ইশতেহারে শুধু রাজনীতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ থাকবে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশেষ কিছু চমক থাকছে এবারের ঘোষণায়।”
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেব, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং মেধার মূল্যায়ন হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটানোই আমাদের ইশতেহারের মূল সুর।”





