অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

মোজতবা খামেনির প্রথম ভাষণেই যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলকে কঠোর বার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই ভাষণে তিনি বলেন, ইরান প্রতিরোধের পথ থেকে সরে আসবে না; শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোট প্রয়োজন হলে দ্রুত সক্রিয় হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই ভাষণকে তেহরানের নতুন নেতৃত্বের কৌশলগত অবস্থান পরিষ্কার করার প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণে মোজতবা খামেনি একদিকে অভ্যন্তরীণ ঐক্যের আহ্বান জানান, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ইরানের অবস্থান আরও দৃঢ় করার সংকেত দেন।

ভাষণে তিনি বলেন, “ইসলামি বিপ্লবের পথ রক্তে রঞ্জিত হলেও এই পথেই আমাদের অগ্রযাত্রা। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের প্রসঙ্গ, যা ইরানের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোজতবা খামেনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ইসলামি বিপ্লবের আদর্শকে সমর্থন করে। বিশেষ করে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। একইভাবে ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোও ইসলামি বিপ্লবের পাশে দাঁড়াতে চায়। নির্দেশনা পেলেই তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।”

এই বক্তব্যকে অনেকেই আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কারণ ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।

ভাষণে মোজতবা খামেনি আরও বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তার ভাষায়, “আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু যারা আমাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তাদের উপস্থিতি আমরা মেনে নেব না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশের দেশে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার