ভোটগ্রহণ শেষ, গণনা চলছে
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত সময় শেষে এখন চলছে দেশজুড়ে ব্যালট গণনার মহাব্যস্ততা। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে সমগ্র জাতি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কুয়াশাভেজা ভোরে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। প্রায় দেড় দশক পর একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেছে অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। টানা ৯ ঘণ্টা কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হতেই কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয় ভোট গণনার আনুষ্ঠানিকতা। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেহেতু এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোটের ব্যালটও (গোলাপি ও সাদা) গণনা করতে হচ্ছে, তাই চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সারাদেশে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট চললেও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আসনটির জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিদ্ধান্ত নেয়। এই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করে ভোট নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মাঠের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু বিচ্ছিন্ন ককটেল বিস্ফোরণ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য এবং ১ লাখের বেশি সেনাসদস্যের কড়া নজরদারিতে ভোটের মাঠ ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।
এক নজরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
-
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন।
-
কেন্দ্র সংখ্যা: ৪২ হাজার ৭৭৯টি (বিরতিহীন ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ)।
-
অংশগ্রহণকারী দল: ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল (আওয়ামী লীগ ব্যতীত)।
-
নিরাপত্তা বাহিনী: ৯ লাখেরও বেশি সদস্য (সেনাবাহিনীসহ)।
-
স্থগিত আসন: শেরপুর-৩ (প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে)।





