বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়: তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ শোক পালন করা হবে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ছুটির দিনে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক ও হাসপাতালসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সেবা এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে থাকায় ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার বিদায়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিদায়ে জাতি একজন আপসহীন নেত্রীকে হারালো।





