বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড: আউন্সপ্রতি ৩৫০০ ডলার ছাড়ালো
বিশ্ববাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ।
এদিন স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৪৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। বাজারের শুরুতে এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০৮.৫০ ডলারে উঠেছিল। এছাড়া, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড ফিউচারসের দাম ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫৬৫.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ক্যাপিটাল ডট কম-এর কাইল রডা বলেন, “মার্কিন অর্থনীতির দুর্বলতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা সোনার মতো মূল্যবান ধাতুকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।” তিনি আরও জানান, মার্কিন ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়া এবং ডলার সূচকের এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
মার্কিন ডলারের দরপতনের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়েছে। ফলে, বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি ঝুঁকছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে সুদহার না কমানোর জন্য সমালোচনা করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি ফেডের সদরদপ্তরের ব্যয়বহুল সংস্কার নিয়েও পাওয়েলের সমালোচনা করেন।
এছাড়া, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীন সংস্থা হওয়া উচিত, তবে এটি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, যা সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্ববাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সোনাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অর্থনৈতিক সংকট বা মুদ্রাস্ফীতির সময় বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয়। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সীমাবদ্ধতাও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই ঊর্ধ্বগতি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সোনাকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সোনার দাম আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।





