বাংলাদেশে জ্বালানির বিক্রি বেড়েছে ১৮%, আতঙ্কে মজুতের প্রবণতা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ডিলার থেকে সাধারণ ব্যবহারকারী—অনেকে বাড়তি জ্বালানি কিনে মজুত করছেন।
ফলে এক মাসের ব্যবধানে দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি তেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গত মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিবহন, কৃষি এবং শিল্পখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বাজারে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক ডিলার ও পরিবেশক ধারণা করছেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে সরকার দেশেও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই তারা আগেভাগে বেশি করে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিপিসির কর্মকর্তারা এটিকে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, বাজারে আতঙ্ক কমে গেলে বিক্রি ও মজুতের এই অস্বাভাবিক প্রবণতাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত দুই দিনে তিনটি জাহাজে করে মোট প্রায় ৮৫ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজের জ্বালানি ইতোমধ্যে খালাস করা হয়েছে, আর বাকি দুটি জাহাজ থেকে খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি বাজারে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় প্রায়ই সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যা বাজারে কৃত্রিম চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি স্থায়ী হয় না।
তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কখনো কখনো বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি করে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। তাই ডিলার ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, যাতে আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয় মজুত না করা হয়।





