প্রবাসী ভোটে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই, লাইভ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা নজরদারি চলবে: : ইসি সানাউল্লাহ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ রাখা হয়নি। লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ডিজিটাল-অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণকে ঘিরে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর এবারই প্রথম বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে লাখ লাখ প্রবাসী এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের পোস্টাল ব্যালট দেশে ফিরতে শুরু করেছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল—দূর থেকে ভোট দেওয়ার এই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে?
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, প্রবাসী ভোটারদের প্রত্যেকটি ভোটের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য লাইভ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ভুয়া বা ডুপ্লিকেট ভোটের কোনো সম্ভাবনা থাকছে না। এছাড়া ব্যালট যখন খামে ভরে পাঠানো হবে, তখন থেকে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এই ব্যবস্থা শুধু প্রবাসী ভোট নয়, সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
বরিশালের এই সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং ডিজিটাল মনিটরিং টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সানাউল্লাহ সভায় আরও বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের ভয়ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হবে।
প্রবাসী ভোটের বিষয়টি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এই ভোটগুলো গণনার সময় সাধারণ ব্যালটের সঙ্গে একসঙ্গে গণনা করা হবে, যদিও প্রতীকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সময় লাগতে পারে।
নির্বাচন কমিশনারের এই আশ্বাস প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে মনে করছেন, লাইভ যাচাই এবং গোয়েন্দা তত্ত্বাবধানের মতো ব্যবস্থা থাকলে প্রবাসী ভোটের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়বে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ব্যালট পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পোস্টাল সার্ভিসের দক্ষতা এবং সময়মতো পৌঁছানো নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ।





