নির্বাচনী মাঠে সাংবাদিকদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে ইসির নীতিগত সিদ্ধান্ত, ম্যানুয়ালি ইস্যু হবে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রয়োজনে সাংবাদিকদের কার্ড ম্যানুয়ালি ইস্যু করা হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা না থাকে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ওপর দায়িত্ব ও চাপ—দুটিই বেড়েছে বহুগুণ। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখাও ইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে কমিশনের এই নীতিগত সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত অনলাইনভিত্তিক পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার ইস্যু করা হয়। তবে বিভিন্ন সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটি, তথ্য যাচাইয়ের দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক সাংবাদিক সময়মতো এসব অনুমোদন পান না। ফলে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন কিংবা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটে। এবারের নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি এড়াতেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসির নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “সাংবাদিকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কমিশন আন্তরিক। যদি কোনো কারণে অনলাইন পদ্ধতিতে কার্ড বা স্টিকার ইস্যুতে সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় তা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান দিতে পারেন। একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালে সাংবাদিকদের অবাধ চলাচল ও তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কার্ড বা স্টিকার না থাকায় অনেক সাংবাদিককে নিরাপত্তা চেকপোস্টে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।





