‘দেশে তেলের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু ব্যবসায়ী’
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
তিনি আরও বলেন, “মানুষের দুর্ভোগকে পুঁজি করে যারা মজুতদারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়তে দেবে না।”
মির্জা ফখরুল বলেন, জ্বালানি শুধু পরিবহন নয়, কৃষি, শিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তাই তেলের বাজারে অস্থিরতা মানেই পুরো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়া। এ কারণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঢেউটিন, নগদ সহায়তার চেক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দপত্র তুলে দেন। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন শুধু সরকারি দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক দায়ও। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদেরও এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরার নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছে। এতে অনেক এলাকায় অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। তবে সরকারি বক্তব্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।





