দিল্লিতে বিমানেই সিজেপি নেতাদের আটক: তিন শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ধোঁয়াশা
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে বিমানেই সিজেপি নেতাদের আটক করার পর থেকে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই অন্যতম শীর্ষ নেতা সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আটককৃতদের অবস্থান গোপন রাখায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।
শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই নজিরবিহীন নাটकीय পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমান থেকে সাধারণ যাত্রীদের নামার আগেই পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থেকেই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকেসহ অপর দুই নেতাকে হেফাজতে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমান থেকে নেওয়ার পর পুলিশ তাদের একটি আলাদা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তবে এর পর থেকে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে বা কোনো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে দিল্লি পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
সিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে যে, কোনো প্রশাসনিক সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বা স্বজনদের না জানিয়ে শীর্ষ নেতাদের এভাবে অজ্ঞাত স্থানে রাখা আইন বহির্ভূত। দলটির মুখপাত্ররা জানান, সিজেপি নেতাদের আটক করার পর পরিবারের সদস্য বা দলীয় আইনজীবীদেরও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রাজধানী দিল্লিতে নির্ধারিত গণবিক্ষোভ বানচাল করতেই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে এই ধরনের দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকে ভারতের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেন, যা সম্প্রতি বেশ কিছু নীতিগত ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রাজধানী দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত একটি শান্তিপূণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতেই তারা মুম্বাই থেকে উড়ে এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই পুরো পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। দলটির নেতারা দাবি করছেন, কোনো বৈধ পরোয়ানা ছাড়াই এই আটক প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
পার্টির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, অবিলম্বে তাদের তিন নেতার অবস্থান প্রকাশ্যে না আনলে এবং তাদের সসম্মানে মুক্তি না দিলে এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। একই সাথে দিল্লির রাজপথে কর্মীদের ওপর পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দিল্লি জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




