ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেশে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৪৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট ১২,৭৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সর্বোচ্চ ১৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬১ জন, ময়মনসিংহে ১০ জন, রংপুরে ৩ জন এবং সিলেটে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই তথ্য ইঙ্গিত করে যে ডেঙ্গু কেবল শহরাঞ্চলেই নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১১,৪০৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে, আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯.২% পুরুষ এবং ৪০.৮% নারী, যা রোগের বিস্তারে লিঙ্গভিত্তিক কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নির্দেশ করে না।
২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে ৩,২১,১৭৯ জন আক্রান্ত এবং ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু মহামারী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ১,০১,২১৪ জন আক্রান্ত এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। তবে, ২০২৫ সালে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এই প্রকোপের অন্যতম কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। স্থানীয় সরকারের উচিত নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো।” তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়লেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।





