ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা কাটছাঁটের মধ্যে জাতিসংঘকে ২০০ কোটি ডলারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
বিদেশি সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার নীতির মধ্যেই জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য ২০০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশ এই সহায়তা পাবে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সামগ্রিক বিদেশি সহায়তা কমাচ্ছে এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে ‘খাপ খাওয়াতে, সঙ্কুচিত হতে অথবা বিলুপ্ত হতে’ আহ্বান জানাচ্ছে—এমন সময়ে এই ঘোষণা এলো।
ঘোষিত অর্থ অতীতের তুলনায় অনেক কম হলেও ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, এটি যথেষ্ট উদার এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক দাতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। অর্থটি একটি সমন্বিত তহবিলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) ও এর প্রধান টম ফ্লেচার বিভিন্ন সংস্থা ও অগ্রাধিকার খাতে অর্থ বরাদ্দ করবেন। এটি জাতিসংঘ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মানবিক সহায়তা খাতের অনেকে এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—আশঙ্কা করছেন, এতে কর্মসূচি ও সেবায় বড় কাটছাঁট হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সহায়তাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, কঙ্গো, হাইতি, সিরিয়া, ইউক্রেনসহ ১৭টি দেশ। তবে সংকটাপন্ন আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড (গাজা) এ তালিকায় নেই। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গাজার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার আওতায় আলাদা তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবিক সহায়তা সর্বোচ্চ ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এর মধ্যে ৮-১০ বিলিয়ন ছিল স্বেচ্ছা অনুদান। বর্তমান ঘোষণা তার তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংস্কারের লক্ষ্য কম অর্থে আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা এবং পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা।
সমালোচকরা মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা কমানো দূরদর্শী নয়। এতে কোটি কোটি মানুষ অনাহার, বাস্তুচ্যুতি ও রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের মতো দাতারাও সহায়তা কমিয়ে সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।
বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে—সুদান ও গাজায় দুর্ভিক্ষ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যা-খরায় প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতো সংস্থাগুলো আগের তুলনায় কম অর্থ পাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাটছাঁটে অনেক সংস্থাকে প্রকল্প কমাতে ও কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে।
এই ২০০ কোটি ডলার চলতি বছরের জন্য ওসিএইচএ’র বার্ষিক আহ্বানের প্রাথমিক কিস্তি। নতুন পদ্ধতিতে সহায়তা আরও কেন্দ্রীভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





