জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বসুন্ধরায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় যান। পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে বেইলি রোডে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই দুই বৈঠক। প্রথমে তারেক রহমান পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান–এর বসুন্ধরার বাসভবনে। সাক্ষাৎটি ছিল একান্ত এবং প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, তবে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগের দিন বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জামায়াত আমির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান। সে ঘোষণা অনুযায়ী, সন্ধ্যার পরই শুরু হয় বৈঠক পর্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎগুলো কেবল সৌজন্যমূলক নয়; বরং নতুন সংসদ গঠন ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ।
জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতেই বেইলি রোডে যান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান নাহিদ ইসলাম, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য রাজনীতির অংশ হিসেবেই এ সাক্ষাৎ হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়।
বৈঠকের সময় দুই নেতা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আলাদা কক্ষে আলোচনা করেন। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে কেউ আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং না দিলেও উভয় পক্ষই ‘ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই ধরনের যোগাযোগ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে। অতীতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দূরত্ব অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এবার তুলনামূলক সংলাপমুখী পরিবেশ তৈরি হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে।





