‘জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনে জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার’
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর যানবাহনের ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই দুই দিন আগে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বা জরুরি সেবার কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
সংসদে আলোচনার সূত্রপাত হয় কুমিল্লার এক কাস্টমস কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পুলিশের টহল কমে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এ সময় কয়েকজন সদস্য তেল সংকট ও জ্বালানি রেশনিংয়ের কারণে পুলিশি কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে কি না—সে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে তেলের সরবরাহ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা ঠিক হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট নেই। বিশেষ করে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবার যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যদি কোথাও টহল কমে থাকে, সেটি প্রশাসনিক ত্রুটি হতে পারে; তবে জ্বালানির অভাবকে কারণ হিসেবে দেখানো সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সরকার কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সীমিত রেশনিং নীতি অনুসরণ করলেও জরুরি সেবাগুলোকে শুরু থেকেই অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়।
কুমিল্লার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা আরও জরুরি।
বিরোধী সদস্যদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি রেশনিং আগেই তুলে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে কিছু এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কেন কমেছে। এর জবাবে সরকারপক্ষ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





