চার আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ: এপ্রিল–মেতে শুনানি করবে হাইকোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দায়ের করা পৃথক চারটি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারপতি মো. জাকির হোসেন–এর একক বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আগামী এপ্রিল ও মে মাসে পৃথকভাবে এসব আবেদনের শুনানি হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারী চার প্রার্থীর মধ্যে একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর এবং অপর তিনজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর। সংশ্লিষ্ট চারটি আসন হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪। এসব আসনে ফল ঘোষণার পরপরই অনিয়ম, জাল ভোট ও ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রার্থীরা।
আবেদনকারীরা হলেন—শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লা এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবদুর রহিম সরকার। তাঁদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ ও গণনার বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান থাকলেও সাংবিধানিক বা আইনগত জটিলতা দেখা দিলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা যায়। আদালত প্রাথমিক শুনানিতে আবেদন গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলে সেটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ নতুন নয়। তবে চারটি আসনে একসঙ্গে শুনানির তারিখ নির্ধারণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা বলছেন, আদালতের মাধ্যমে ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ ও ‘সত্য উদ্ঘাটন’ই তাঁদের লক্ষ্য। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মহল থেকে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে—যদিও আদালতের শুনানির আগে কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিচার বিভাগের ভূমিকা গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোট নিয়ে অনাস্থা বা বিতর্ক তৈরি হলে আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে। ফলে এই চার মামলার শুনানি শুধু সংশ্লিষ্ট আসন নয়, সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বার্তা দেবে।





