গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট আচরণের মতো সাংবাদিকদের ওপর আর কোনোভাবে চড়াও হওয়া উচিত নয়; মুক্ত ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্ত ভিত।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। সাংবাদিকরা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্রের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করা সহজ হয় এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছায়। তিনি বলেন, “আমাদের খেয়াল রাখতে হবে—ফ্যাসিস্টদের মতো সাংবাদিকদের ওপর যেন আমরা আর চড়াও না হই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক চর্চা নানা সংকটে পড়েছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশকে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামনে এসেছে। “আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সংসদ গঠিত হবে। এই সংসদই হবে জাতির সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু,” বলেন তিনি। সংসদের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিক নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ হামলার শিকার হয়েছেন, আবার অনেককে মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন শুধু সত্য প্রকাশের কারণে নির্যাতনের শিকার না হন। এজন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতারাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।





