“গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সারাদেশে জনমতের একটি শক্তিশালী জোয়ার দেখা যাচ্ছে”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সারাদেশে জনমতের একটি শক্তিশালী জোয়ার দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোরা ইউনিয়নের বাতুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই গণভোট জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কারগুলোকে অনুমোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর প্রণীত হয়েছে।
শফিকুল আলমের এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এই গণভোটও হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার জুলাই সনদকে দেশের প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে দেখছে। তাঁরা দাবি করছেন, এই সনদ ছাড়া অতীতের স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসতে পারে। প্রেস সচিব বলেন, “জনগণের অধিকার রক্ষা করতে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য।”
জুলাই জাতীয় সনদের পটভূমি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার বিপ্লবে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে প্রায় ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়, যার মধ্যে ৫০টি সাংবিধানিক। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সম্মিলিত কমিটি (এনসিসি) এবং ২৪টি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করে। তবে ৫২টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে মাত্র ২৫টি সমর্থন করেছে, আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
গণভোটের প্রশ্নপত্রে ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হবে: “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে অনুমোদন করেন কি?” এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার; একটি ১০০ সদস্যের সমানুপাতিক নির্বাচিত উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষীয় সংসদ; প্রতিনিধিত্ব, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স, অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের ৩০টি সম্মত সংস্কারের বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকার নিজেই গণভোটের আয়োজক হওয়ায় একপক্ষীয় প্রচারণা অযৌক্তিক। তবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, এটি গণতান্ত্রিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজনীয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন এবং গণভোটকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মতো দলগুলো সনদের কিছু অংশ সমর্থন করলেও, আওয়ামী লীগ এটিকে অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান সাবেক ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো বলেছেন, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা জোরালো হলেও, বিরোধীদের ‘না’ ক্যাম্পেইনও চলছে।





